এসিডের ধারণা
এসিডের ধারণা
যেসব যৌগ জলীয় দ্রবণে বিয়োজিত হওয়ার সময়
:::info
👉🏽 হাইড্রোজেন পরমাণু থেকে একটা ইলেক্ট্রন চলে গেলে সেখানে আর কোন ইলেক্ট্রন থাকে না। শুধু প্রোটন পড়ে থাকে। এজন্যেই
:::
শক্তিশালী এসিড
শক্তিশালী এসিড পুরোপুরি (বা ৯৭-৯৯%) বিয়োজিত হতে পারে। অর্থাৎ
যেমনঃ
দূর্বল এসিড
দূর্বল এসিড পুরোপুরী বিয়োজিত হতে পারে না। মাত্র ৫-৬% এর মত বিয়োজিত হতে পারে। এরা
যেমনঃ
:::warning
❓ তারমানে কি স্যার কোন যৌগের মধ্যে H থাকলেই সেটা এসিড?
উত্তর হচ্ছে “না”। শুধু H থাকলেই হবে না। সেই H দান করার মত এবিলিটি থাকা লাগবে। নইলে এসিড হবে না।
:::
অধাতুর অক্সাইডগুলো এসিডীয় হয়
যেমনঃ
কিন্তু স্যার এদের মধ্যে তো কোন
হ্যাঁ তা নেই। কিন্তু এদের পানিতে মেশালে এরা এসিড তৈরী করতে পারে। অর্থাৎ পানিতে মেশালে যে যৌগ এরা তৈরী করে তা
যেমনঃ
:::info
❓ অধাতু কারা?
পর্যায় সারণীর গ্রুপ (১৪-১৭) এর মৌল সমূহ
:::
:::info
❓ আচ্ছা স্যার, ধাতুর অক্সাইড কী ধর্মী?
সিম্পল। ক্ষার ধর্মী।
:::
লঘু (Dilute) এসিড ও গাঢ় (Concentrated) এসিড কী?
খুব সহজভাবে বললে, একটি এসিডের দ্রবণে কতটা পানি আর কতটা এসিড আছে, তার ওপর ভিত্তি করে তাকে লঘু বা গাঢ় বলা হয়।
- লঘু এসিড (Dilute Acid): যখন কোনো এসিডের দ্রবণে এসিডের পরিমাণ খুব কম থাকে এবং পানির পরিমাণ অনেক বেশি থাকে, তখন তাকে লঘু এসিড বলে। যেমন, এক গ্লাস পানিতে যদি তুমি মাত্র কয়েক ফোঁটা এসিড মেশাও, তবে সেটাই হবে লঘু এসিড।
- গাঢ় এসিড (Concentrated Acid): যখন কোনো এসিডের দ্রবণে পানির পরিমাণ খুব কম থাকে এবং এসিডের পরিমাণ অনেক বেশি থাকে, তখন তাকে গাঢ় এসিড বলে।
:::success
📢 উদাহরণ: ধরো, ১০০ গ্রাম সালফিউরিক এসিডের (
:::
লঘু ও গাঢ় এসিডের বিভিন্ন ধর্ম
যদিও দুটোই এসিড, এদের ঘনত্বের ওপর ভিত্তি করে এদের ধর্মে কিছু জরুরি পার্থক্য দেখা যায়।
১. সাধারণ এসিডীয় ধর্ম
সব এসিডেরই কিছু সাধারণ ধর্ম আছে, কিন্তু লঘু আর গাঢ় অবস্থায় সেই ধর্মের তীব্রতা কম-বেশি হয়।
- স্বাদ: দুটোই টক স্বাদযুক্ত।
- নির্দেশকের উপর প্রভাব: দুটোই নীল লিটমাস কাগজকে লাল করে দেয়।
- ক্ষারের সাথে বিক্রিয়া: দুটোই ক্ষারের সাথে বিক্রিয়া করে লবণ ও পানি তৈরি করে।
২. সক্রিয় ধাতুর সাথে বিক্রিয়া
লঘু এবং গাঢ় এসিড—দুটোই সক্রিয় ধাতুর (যেমন: জিঙ্ক, ম্যাগনেসিয়াম, আয়রন) সাথে বিক্রিয়া করে, কিন্তু তাদের ফলাফল ভিন্ন হতে পারে।
-
লঘু এসিডের সাথে বিক্রিয়া:
লঘু এসিড সক্রিয় ধাতুর সাথে বিক্রিয়া করে লবণ এবং হাইড্রোজেন গ্যাস (H₂) তৈরি করে। এটি একটি সাধারণ প্রতিস্থাপন বিক্রিয়া, যেখানে ধাতু এসিড থেকে হাইড্রোজেনকে সরিয়ে দেয়।
উদাহরণ:
-
গাঢ় এসিডের সাথে বিক্রিয়া:
গাঢ় এসিড (বিশেষ করে গাঢ় সালফিউরিক বা নাইট্রিক এসিড) সক্রিয় ধাতুর সাথে বিক্রিয়া করলে সাধারণত হাইড্রোজেন গ্যাস তৈরি হয় না। কারণ এই গাঢ় এসিডগুলো শক্তিশালী জারক। এরা বিক্রিয়ায় উৎপন্ন হাইড্রোজেনকে জারিত করে পানিতে (H₂O) পরিণত করে এবং নিজেরা বিজারিত হয়ে অন্য গ্যাস (যেমন: সালফার ডাইঅক্সাইড, নাইট্রোজেন ডাইঅক্সাইড) তৈরি করে।
উদাহরণ:
:::info
👉🏽 মূল পার্থক্য: লঘু এসিড দিলে হাইড্রোজেন গ্যাস পাবে, কিন্তু গাঢ় এসিড দিলে অন্য গ্যাস (যেমনবা ) পাবে।
:::
৩. ক্ষয়কারী ধর্ম (Corrosive Nature)
- গাঢ় এসিড: এটি খুব বেশি ক্ষয়কারী। তোমার ত্বক, কাপড় বা কাগজের ওপর পড়লে মারাত্মকভাবে পুড়িয়ে ফেলে বা নষ্ট করে দেয়।
- লঘু এসিড: এটি তুলনামূলকভাবে কম ক্ষয়কারী, কিন্তু ত্বকের জন্য এটিও ক্ষতিকর হতে পারে।
৪. নিরুদক ধর্ম (Dehydrating Property)
- গাঢ় এসিড: গাঢ় সালফিউরিক এসিড (H₂SO₄) একটি শক্তিশালী নিরুদক। এর মানে হলো, এটি অন্য কোনো পদার্থ থেকে পানি শোষণ করে নিতে পারে। যেমন, চিনির মধ্যে গাঢ় সালফিউরিক এসিড দিলে তা চিনি থেকে সব পানি বের করে শুধু কালো কার্বন রেখে দেয়।
- লঘু এসিড: লঘু এসিডের এই ধর্মটি নেই।
৫. জারক ধর্ম (Oxidizing Property)
- গাঢ় এসিড: কিছু গাঢ় এসিড, যেমন গাঢ় নাইট্রিক এসিড (HNO₃) এবং গাঢ় সালফিউরিক এসিড (H₂SO₄), শক্তিশালী জারক পদার্থ হিসেবে কাজ করে।
- লঘু এসিড: লঘু অবস্থায় এদের জারক ধর্ম প্রায় থাকে না।
৬. বিদ্যুৎ পরিবাহিতা
- লঘু এসিড: লঘু এসিডে পানি বেশি থাকায় এর অণুগুলো প্রায় পুরোপুরি আয়নে (
) ভেঙে যায়। তাই লঘু এসিড ভালোভাবে বিদ্যুৎ পরিবহন করতে পারে। - গাঢ় এসিড: গাঢ় এসিডে পানি কম থাকায় এর অণুগুলো ভালোভাবে আয়নে ভাঙতে পারে না, তাই এর বিদ্যুৎ পরিবাহিতা তুলনামূলকভাবে কম হয়।
লঘু এসিড বনাম গাঢ় এসিড: Summary
| ধর্ম (Property) | লঘু এসিড (Dilute Acid) | গাঢ় এসিড (Concentrated Acid) |
|---|---|---|
| সংজ্ঞা ও গঠন | যে দ্রবণে এসিডের চেয়ে পানির পরিমাণ অনেক বেশি থাকে। | যে দ্রবণে পানির চেয়ে এসিডের পরিমাণ অনেক বেশি থাকে। |
| ক্ষয়কারী ক্ষমতা | তুলনামূলকভাবে কম ক্ষয়কারী। | অত্যন্ত ক্ষয়কারী, ত্বক ও অন্যান্য বস্তুর মারাত্মক ক্ষতি করে। |
| সক্রিয় ধাতুর সাথে বিক্রিয়া | লবণ ও হাইড্রোজেন গ্যাস (H₂) তৈরি করে। | লবণ, পানি এবং অন্য গ্যাস (যেমন: SO₂, NO₂) তৈরি করে। হাইড্রোজেন গ্যাস তৈরি হয় না। |
| লিটমাস পরীক্ষা | নীল লিটমাসকে লাল করে। | নীল লিটমাসকে লাল করে। (ফলাফল একই) |
| নিরুদক ধর্ম | এই ধর্ম নেই। | শক্তিশালী নিরুদক হিসেবে কাজ করে (বিশেষত H₂SO₄)। অন্য যৌগ থেকে পানি শোষণ করে। |
| জারক ধর্ম | সাধারণত জারক ধর্ম দেখায় না। | শক্তিশালী জারক হিসেবে কাজ করে (বিশেষত H₂SO₄ ও HNO₃)। |
| বিদ্যুৎ পরিবাহিতা | উত্তম বিদ্যুৎ পরিবাহী (কারণ বেশি আয়ন তৈরি হয়)। | তুলনামূলকভাবে দুর্বল বিদ্যুৎ পরিবাহী (কারণ কম আয়ন থাকে)। |
| উদাহরণ | সালফিউরিক এসিডের 5% জলীয় দ্রবণ। | সালফিউরিক এসিডের 98% জলীয় দ্রবণ। |